Bangabidya Style Manual

বঙ্গবিদ্যা গবেষণাপত্র লিখনরীতি

বাংলায় গবেষণাপত্র ও অভিসন্দর্ভের জন্য একটি মান্য লিখনরীতি প্রস্তুত করার কাজটি ২০১১-তে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২য় আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন থেকে শুরু হয়েছে। এনিয়ে নিয়মিত আলোচনা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ২০১৫-য় অনুষ্ঠিতব্য ৪র্থ আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে গবেষণাপত্র লিখনরীতিটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে ইতিমধ্যে বঙ্গবিদ্যা গবেষণা-পত্রিকায় ব্যবহারের জন্য একটি অন্তর্বর্তী গবেষণাপত্র লিখনরীতি পেশ করা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করতে গিয়ে আপনারা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, বা এনিয়ে আপনাদের কী মতামত, তা আমাদের জানালে সেগুলি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নিয়মিত ব্যবধানে এই নিয়মাবলীতে সংশোধন/সংযোজন করে এখানে দেওয়া হবে।

এখানে মূলত তথ্যসূত্র, অন্ত্যটীকা ও রচনাপঞ্জি সম্পর্কিত নিয়মাবলী দেওয়া হল। পৃষ্ঠাবিন্যাস এবং উদ্ধৃতি ব্যবহারের নিয়মাবলী MLA Style Summary অনুযায়ী হবে।

তথ্যসূত্র

প্রবন্ধের মধ্যে কোনো রচনা উল্লিখিত হলে বা কোনো রচনা থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হলে বা কোনো রচনা থেকে তথ্য ব্যবহার করা হলে তথ্যসূত্র প্রবন্ধের মধ্যেই নিম্নোক্ত আদরায় দিতে হবে।

প্রথম ব্যবহারঃ

(অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য,  ১৯৭৩, ১)

ঠিক তার পরেই, মধ্যে ভিন্ন কোনো উৎস ব্যবহৃত না হলেঃ

একই পৃষ্ঠা থেকে তথ্য/উদ্ধৃতি দিলেঃ

(তদেব)

পৃষ্ঠা আলাদা হলেঃ

(তদেব, ৩)

মধ্যে ভিন্ন কোনো তথ্যসূত্র দিয়ে আবার এই উৎস ব্যবহার করলেঃ

(অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, প্রাগুক্ত, ১)

এই বইয়ে অন্য উৎস থেকে উদ্ধৃত কোনো মন্তব্য উদ্ধৃত করলেঃ

(মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, উদ্ধৃতি, অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, প্রাগুক্ত, ১)

এই বইয়ে অন্য উৎস থেকে উল্লিখিত কোনো তথ্য উল্লেখ করলেঃ

(মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, প্রাগুক্ত, পৃ- ১)

ইংরেজি বইয়ের ক্ষেত্রে ইংরেজিতে একই আদরা ব্যবহৃত হবেঃ

ইংরেজিতে প্রাগুক্তঃ op. cit.

ইংরেজিতে তদেবঃ ibid

অন্ত্যটীকা

গবেষণাপত্রে প্রতি পৃষ্ঠায় পাদটীকার বদলে সম্পূর্ণ গবেষণাপত্রের/অধ্যায়ের শেষে অন্ত্যটীকা ব্যবহার করতে হবে। অন্ত্যটীকা মূল লেখার ধারাবাহিক ভাবে সংখ্যা দিয়ে (যেমন, ১,২,৩…) চিহ্ণিত করতে হবে। মোটামুটি তিনটি ক্ষেত্রে অন্ত্যটীকা ব্যবহার করা প্রয়োজনঃ

১/ মূল আলোচনার পক্ষে অত্যাবশ্যক নয়, কিন্তু প্রাসঙ্গিক হতে পারে, এমন কোনো সংজ্ঞা / তথ্য / উদ্ধৃতি / পরিসংখ্যান/ মন্তব্য সংযোজন করতে হলে।

২/ মূল আলোচনায় ব্যবহৃত কোনো বই/প্রবন্ধ/তথ্য সম্পর্কে অতিরিক্ত মন্তব্য/তথ্য সংযোজন করতে হলে।

৩/ মূল আলোচনায় সংক্ষেপে উল্লিখিত কোনো বিষয় সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য রচনার তালিকা সংযোজন করতে হলে।

রচনাপঞ্জি

বইঃ

অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, ১৯৭৩, ঊনবিংশ শতকে বাংলা সাহিত্যেতিহাস-চর্চা, কলকাতাঃ সারস্বত লাইব্রেরী

সম্পাদিত বইঃ

আতিউর রহমান (সম্পা),২০০০, ভাষা-আন্দোলনের আর্থ-সামাজিক পটভূমি, ঢাকাঃ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, দ্বিতীয় সংস্করণ, (প্রথম প্রকাশঃ ১৯৯০)

 

সংকলিত বইঃ

বদরুদ্দিন উমর (সংকলক), ১৯৮৪, ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গঃ কতিপয় দলিল, প্রথম খণ্ড, ঢাকাঃ বাংলা একাডেমী

 

অনুবাদঃ

ই এইচ কার, ২০০৬, কাকে বলে ইতিহাস, অনুঃ স্নেহোৎপল দত্ত ও সৌমিত্র পালিত, কলকাতাঃ কে পি বাগচী অ্যান্ড  কোম্পানি, দ্বিতীয় পুনর্মুদ্রণ,  (মূল ইংরেজি প্রথম প্রকাশঃ ১৯৬১; বঙ্গানুবাদ প্রথম প্রকাশঃ ১৯৯১)

রচনাবলীঃ

মনসুর মুসাঃ (সম্পা), ১৯৯৭, মুহম্মদ এনামুল হক রচনাবলী,  পঞ্চম খণ্ড, ঢাকাঃ বাংলা একাডেমী

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৯৯, পদ্মানদীর মাঝি, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনাসমগ্র, ২য় খণ্ড, কলকাতাঃপশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৯৮০, বঙ্কিম রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতাঃ সাহিত্য সংসদ, সপ্তম মুদ্রণ

 

কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত (লেখক বা সম্পাদকের নাম অনুল্লিখিত)

বাঙলাদেশ শহীদ স্মৃতি সমিতি, ১৯৭২, বাঙলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রসঙ্গে, কলকাতাঃ ন্যাশনাল বুক এজেন্সি,

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ভাষণ সংকলন, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ২০০৬

পূর্বপ্রকাশিত বই বা প্রবন্ধের সম্পাদিত সংস্করণঃ 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৯৭৭, সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য শাস্ত্র বিষয়ক প্রস্তাব, সম্পাদনাঃ মদনমোহন কুমার, কলকাতাঃ বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ, প্রথম পরিষৎ সংস্করণ, (প্রথম প্রকাশঃ ১৮৫৩)

কোনো সংকলিত/সম্পাদিত বইয়ের অন্তর্গত প্রবন্ধঃ

নির্মলকুমার বসু, ১৯৯৮, বঙ্গদেশে জাতিব্যবস্থাঃ কয়েকটি প্রসঙ্গ, শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিজিৎ দাশগুপ্ত (সম্পা), জাতি, বর্ণ ও বাঙালি সমাজ, দিল্লিঃ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ

লিটল ম্যাগাজিনের অন্তর্গত প্রবন্ধঃ

রাজীব চৌধুরী, ২০০৩, (ডিসেম্বর), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসঃ সমীকরণের সমস্যা, দেবব্রত চট্টোপাধ্যায় (সম্পাঃ), পরিকথা, ষষ্ঠ বর্ষ-প্রথম সংখ্যা, কলকাতাঃ পরিকথা, পৃঃ ৮০-৮৮

গবেষণা পত্রিকার অন্তর্গত প্রবন্ধঃ

অঞ্জন গোস্বামী, ১৯৮৮, (জুলাই-ডিসেম্বর), সাম্প্রদায়িকতা ও আধুনিক ইতিহাসচর্চা, অশীন দাশগুপ্ত প্রমুখ (সম্পাঃ), ঐতিহাসিক, তৃতীয় বর্ষ- ৩য়-৪র্থ সংখ্যা, কলকাতা, পৃঃ ২৬-৪৪

শশিভূষণ দাশগুপ্ত, ১৩৬৫, (শ্রাবণ ১৩৬৪- আষাঢ় ১৩৬৫), সাহিত্যালোচনায় ইতিহাস-চেতনা,  সম্পাঃ পুলিনবিহারী সেন, বিশ্বভারতী পত্রিকা, চতুর্দশ বর্ষ, পৃ-১৭৮-১৯০

 

লিটল ম্যাগাজিনঃ

বিশ্ববন্ধু ভট্টাচার্য (সম্পা),২০০৯ (ফেব্রুয়ারি-জুন), পরিচয়, ৭-১২ সংখ্যা-৭৮ বর্ষ, কলকাতাঃ পরিচয়

অমিতাভ দাশগুপ্ত (সম্পা), ১৯৯৪, (মার্চ-জুন), গোপাল হালদার স্মরণ সংখ্যা, পরিচয়, কলকাতাঃ পরিচয়

গবেষণা পত্রিকা

দর্শন চৌধুরী (সম্পা), ১৯৮২-৮৩, বাংলা সাহিত্য পত্রিকা, তৃতীয় সংখ্যা, কল্যাণীঃ বাংলা বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়,

 

ব্যবহৃত রচনাটি প্রথম মুদ্রণ না হলেঃ

হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ২০০১, বাংলা গদ্যের ইতিবৃত্ত, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, দ্বিতীয় মুদ্রণ,  (প্রথমপ্রকাশঃ ১৯৯১)

হুমায়ুন আজাদ, ২০১১, লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী, ঢাকাঃ আগামী, দ্বিতীয় সংস্করণঃ ত্রয়োদশ মুদ্রণ,  (প্রথম প্রকাশঃ ১৯৭৬)

ব্যবহৃত রচনাটি প্রথম সংস্করণ না হলেঃ

রামগতি ন্যায়রত্ন, ১৯১০, বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব, তৃতীয় সংস্করণ, সম্পাঃ গিরীন্দ্রনাথ শর্মা, কলকাতাঃ সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি (প্রথম প্রকাশঃ ১৮৭২, একত্রে দুই খণ্ডঃ ১৯৭৩)

ক্ষিতিমোহন সেন, ২০১০, ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা, কলকাতাঃ বিশ্বভারতী, (প্রথম প্রকাশঃ ১৯৪৯)

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি, ২০১০, শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত, উত্তরাংশ, কলকাতাঃ কথা,  (প্রথম প্রকাশঃ ১৯১৭, শিলচরঃ সরস্বতী লাইব্রেরী)

ক্ষুদিরাম দাস (সম্পা), ১৯৯৯, চণ্ডীমঙ্গল, কলকাতাঃ দে’জ, ২য় সংস্করণ

 

বক্তৃতার লিখিত রূপঃ

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৫২, বাঙ্গালা কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ, ১৩ মে ১৮৫২-য় বীটন সোসাইটিতে পঠিত। কলকাতাঃ রঞ্জন পাবলিশিং হাউস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, (প্রথম মুদ্রণঃ ১৮৫২)

 

দুজন লেখকের রচনাঃ

মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান, ১৯৬৪, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, আধুনিক যুগ, ঢাকাঃ ষ্টুডেন্ট ওয়েজ

দুজনের বেশি লেখকের রচনাঃ   

শামসুজ্জামান খান প্রমুখ (সম্পা), ১৯৮৫, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ স্মারকগ্রন্থ, ঢাকাঃ বাংলা একাডেমী,

একই লেখকের একাধিক রচনাঃ

সুখময় মুখোপাধ্যায়, ১৯৬৪, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দ্বিপ্রহর, কলকাতাঃ জেনারেল প্রিন্টার্স এন্ড পাব্লিশার্স

১৯৮৮, বাংলায় মুসলিম অধিকারের আদিপর্ব, কলকাতাঃ সাহিত্যলোক

আহমদ শরীফ, ১৯৭০, স্বদেশ অন্বেষা, ঢাকাঃ খান ব্রাদার্স এণ্ড কোং

(সম্পা),২০০২, মধ্যযুগের কাব্যসংগ্রহ, ঢাকাঃ সময়

একই লেখকের একাধিক রচনায় ভিন্ন সহলেখক থাকলেঃ

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ২০০৬, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ইতিহাসঃ ১৯২১-২০০১, ঢাকাঃ বিজয় প্রকাশ

ও মাহুমুদ শাহ কুরেশি (সম্পা),১৯৮৫, সৈয়দ আলী আহসান সংবর্ধনাগ্রন্থ, ঢাকাঃ সৈয়দ আলী আহসান ফেলিসিটেশন কমিটি

 

 

অপ্রকাশিত গবেষণা সন্দর্ভঃ

মলয় দেব, ২০১১, অসমীয়া ও বাংলা মধ্যযুগীয় ঐতিহাসিক রচনাঃ তুলনামূলক আলোচনা, অপ্রকাশিত পিএচডি সন্দর্ভ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

চলচ্চিত্রঃ

দিলীপ রায়, ১৯৭৯, দেবদাস, কলকাতাঃ এস এস প্রোডাকশন

প্রমথেশ বড়ুয়া, ১৯৩৬, দেবদাস, কলকাতাঃ নিউ থিয়েটার্স

Share This: